test
Monday, May 27, 2024
বাড়িSliderআগস্ট ট্র্যাজেডি ও বর্তমান বাংলাদেশ

আগস্ট ট্র্যাজেডি ও বর্তমান বাংলাদেশ

বিশ্বজিৎ ঘোষ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহিদ হন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫)। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দেশি-বিদেশি শত্রুর ষড়যন্ত্রে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। কতিপয় কুচক্রী দেশদ্রোহী সেনাসদস্য প্রত্যক্ষভাবে এই হত্যাকা- ঘটালেও পেছন থেকে এর কলকাঠি নাড়িয়েছে দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্রকারী ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ট। কিন্তু কেন? কারণ একটাই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীন স্বপ্নযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া এবং সুষম বণ্টনভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ঋদ্ধ যে নতুন রাজনৈতিক দর্শন বঙ্গবন্ধু বিশ্ব রাজনীতিতে সঞ্চার করতে যাচ্ছেন, তা অঙ্কুরেই নষ্ট করে দেওয়া। পঁচাত্তরের আগস্ট ট্র্যাজেডির মাধ্যমে কুচক্রীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে বটে, সাময়িক থামিয়েও দিয়েছিল বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা- কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে তারাই পরাজিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই বাংলাদেশ আজ নানা অর্জনের মধ্য দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- সামাজিক-অর্থনৈতিক যে কোনো সূচকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন পৃথিবীর বিস্ময়।
কী ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন? সহজ কথায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক এবং শোষিত মানুষের সামূহিক মুক্তিই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি-চেতনার মূল কথা। তিনি সেই কৈশোরকাল থেকেই শোষিত-বঞ্চিত-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন- কল্পনা করেছেন সকল প্রকার শোষণ থেকে মানুষের সামূহিক মুক্তি। এই দর্শনই তাকে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রেরণা দিয়েছে- এই দর্শনই তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বের শোষিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতার মর্যাদা। প্রসঙ্গত আমাদের স্মরণে আসে বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর (১৯২৬-২০১৬) স্মরণীয় এই উক্তি- “আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।… শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।” ফিদেল কাস্ত্রোর কাছে বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শোষিত মানুষের একজন মহান নেতা। কেবল বাংলাদেশের নয়, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর সকল দেশের শোষিত মানুষের মুক্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ করা যায়, ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত আলজিয়ার্সের জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের কথা, যে ভাষণে সুস্পষ্টভাবে তিনি বলেছিলেন, “বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্তÑ শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।” শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই অবস্থান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে, বিশ্বের শোষিত-নির্যাতিত মানুষ বাঙালির বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিয়েছে নিজেদের নেতা হিসেবে- ক্রমে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন বিশ্ববন্ধু। প্রসঙ্গত মনে পড়ে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কথা : “শেখ মুজিব ছিলেন একজন মহান নেতা। তাঁর অনন্যসাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।”
মুক্তি-স্বাধিকার-স্বাধীনতা- বঙ্গবন্ধুর এই রাজনৈতিক দর্শনের যাত্রা শুরু চল্লিশের দশকের মধ্যলগ্ন থেকেই। ১৯৪৭ থেকেই তিনি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দর্শনের কথা ঘোষণা করেছেন এবং সেই দর্শনের বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য জীবন বাজি রেখে নানা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে আরম্ভ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- সব আন্দোলন-সংগ্রামেই বঙ্গবন্ধুর প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শন এবং সুষম বণ্টনভিত্তিক অর্থনৈতিক বিশ্ববীক্ষা সর্বদা ক্রিয়াশীল ছিল। সমগ্র জীবনভরই তিনি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কামনা করেছেন শোষিত মানুষের মুক্তি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রকৃত প্রস্তাবেই একজন জনদরদি রাজনৈতিক নেতা।
সুদীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বকীয় প্রজ্ঞা আর অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি একটি নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনে উপনীত হয়েছিলেন। সেই রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি ছিল জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র। গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রÑ দুই বিপ্রতীপ রাষ্ট্র-ব্যবস্থাকে বঙ্গবন্ধু মিলাতে চেয়েছেন অভিন্ন মোহনায়। তার মতে, এই মিলনটাই হতে পারে শোষিত মানুষের মুক্তির একমাত্র দার্শনিক ভিত্তি। গণতন্ত্র সকল মানুষের সমতার কথা বলে না, কাগজে-কলমে থাকলেও সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ বাস্তবে তেমন দৃশ্যগোচর নয়। অপরদিকে, সমাজতন্ত্রে অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ক্রমে গৌণ হয়ে পড়েছে রাজনীতিÑ বঙ্গবন্ধু এ-কথা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। অভিন্ন কথা ভেবেছিলেন প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার (১৮৬৪-১৯২০)। ওয়েবারের মতে, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে একসময় রাজনীতি গৌণ হয়ে যাবে এবং ‘সর্বহারার একনায়কত্বের’ পরিবর্তে ক্রমে দেখা দেবে ‘সরকারি আমলাদের একনায়কত্ব।’ প্রসঙ্গত স্মরণ করতে পারি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সের একসময়ের পরিচালক বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী অ্যান্থনি গিডডেন্সের (Anthony Giddens) এই মন্তব্য : ”… the ‘disappearance’ of the ‘political’ through its merging with the ‘economics’, the result could only be an enormous expansion in bureaucratisation. This would not be the ‘dictatorship of the proletariat’ but the ‘dictatorship of the official’. গিডডেন্সের এই মন্তব্যে বাস্তব প্রতিফলন কি বর্তমান বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে না?
গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রÑ এ দুই রাজনৈতিক দর্শনের অন্তর্গত শক্তি ও দুর্বলতা যথার্থই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন তৃতীয় বিশ্বের অসামান্য এক রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুই ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পাশ কাটিয়ে তিনি শক্তির সামবায়িক রূপের এক নতুন দর্শন দিয়েছেন বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য। এ কারণেই ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আখ্যায়িত করেন বিশ্বের শোষিত মানুষের মহান নেতা হিসেবে, এ কারণেই ইউনেস্কো তাকে আখ্যায়িত করে ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে। গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ভাবনার মূল নির্যাসটা এখন একবার তার কথাতেই দেখা যেতে পারে।
১৯৭২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদন উপলক্ষে গণপরিষদে দেওয়া ভাষণে গণতন্ত্র সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তার নিজস্ব দর্শন ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র সেই গণতন্ত্র, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধন করে।… আমরা দেখেছি যেÑ গণতন্ত্র যেসব দেশে চলেছে দেখা যায়, সেসব দেশে গণতন্ত্র পুঁজিবাদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য কাজ করে এবং সেখানে প্রয়োজন হয় শোষকদের রক্ষা করার জন্যই গণতন্ত্র ব্যবহার। সে-গণতন্ত্রে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র এবং শোষিতের গণতন্ত্রের অর্থ হলো, আমার দেশে যে গণতন্ত্রের বিধিলিপি আছে, তাতে সেসব বন্দোবস্ত করা হয়েছে, যাতে এ দেশের দুঃখী মানুষ রক্ষা পায়, শোষিতরা যাতে রক্ষা পায়, তার ব্যবস্থা নাই। সেজন্য আমাদের গণতন্ত্রের সাথে অন্যের পার্থক্য আছে।… যে চক্র দিয়ে মানুষকে শোষণ করা হয়, সেই চক্রকে আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করতে চাই।… শোষিতকে রক্ষা করার জন্য এই গণতন্ত্র ব্যবহার করা হবে। সেজন্য এখানে গণতন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সংজ্ঞার সঙ্গে অনেকের সংজ্ঞার পার্থক্য হতে পারে।” ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় নিজস্ব গণতন্ত্র-ভাবনা ব্যাখ্যা করে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র। আমি বিশ্বাস করি না, ক্ষমতা বন্দুকের নলে। আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা বাংলার জনগণের কাছে। জনগণ যেদিন বলবে, ‘বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা ছেড়ে দাও’Ñ বঙ্গবন্ধু তারপর একদিনও রাষ্ট্রপতি, একদিনও প্রধানমন্ত্রী থাকবে না।
বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে নাই। বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে দুঃখী মানুষকে ভালোবেসে, বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে শোষণহীন সমাজ কায়েম করবার জন্য।… আমরা চাই শোষিতের গণতন্ত্র, আমরা চাই না শোষকের গণতন্ত্র।”
শোষিতের গণতন্ত্র চাইতেন বলেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্রের পাশাপাশি সমাজতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সমাজতন্ত্র সম্পর্কেও বঙ্গবন্ধুর ছিল স্বতন্ত্র ভাবনা। খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদন উপলক্ষে গণপরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমরা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি।… আমাদের সমাজতন্ত্রের মানেÑ শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র আমরা দুনিয়া থেকে হাওলাত করে আনতে চাই না। সমাজতন্ত্রের মূল কথা হলোÑ শোষণহীন সমাজ। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে সেই দেশের কী আবহাওয়া, কী ধরনের অবস্থা, কী ধরনের মনোভাব, কী ধরনের আর্থিক অবস্থা, সব কিছু বিবেচনা করে ক্রমশ এগিয়ে যেতে হয় সমাজতন্তের দিকে…। রাশিয়া যে পন্থা অবলম্বন করেছে, চীন তা করে নাইÑ সে অন্যদিকে চলেছে। রাশিয়ার বামে বাস করেও যুগোশ্লাভিয়া, রুমানিয়া, বুলগেরিয়া নিজ দেশের পরিবেশ নিয়ে, নিজ জাতির পটভূমি নিয়ে সমাজতন্ত্রের পথে চলেছে। একদিনে সমাজতন্ত্র হয় না। কিন্তু আমরা নয় মাসে যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছি, তা আমার মনে হয়, দুনিয়ার কোনো দেশ, যারা বিপ্লবের মাধ্যমে সোশ্যালিজম এনেছে, তারাও সেগুলি করতে পারেন নাই। এ ব্যাপারে আমি চ্যালেঞ্জ করছি।”
গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্রের সম্মিলিত দর্শন দিয়ে বঙ্গবন্ধু বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির নতুন পথ নির্মাণ করতে চেয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন শোষিত বঞ্চিত উৎপীড়িত মানুষের মুক্তি, প্রত্যাশা করেছেন সাম্রাজ্যবাদ-উপনিবেশবাদের শৃঙ্খল থেকে পরাধীন জাতিসমূহের মুক্তি। বঙ্গবন্ধু প্রত্যাশা করেছেন ঘুণে-ধরা সমাজ-ব্যবস্থার পরিবর্তন।
১৯৭৫-এর ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভায় লক্ষ মানুষের সামনে তিনি ঘোষণা করেন : “সমাজে পরিবর্তন চাই। এই যে কী হয়েছে সমাজের, সমাজ-ব্যবস্থায় যেন ঘুণ ধরে গেছে। এই সমাজের প্রতি চরম আঘাত করতে চাই। যে আঘাত করেছিলাম পাকিস্তানীদের, সে আঘাত করতে চাই এই ঘুণে-ধরা সমাজ-ব্যবস্থাকে।… যে নতুন সিস্টেমে যেতে চাচ্ছি আমি, তাতে গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে।… পাঁচ বছরের প্ল্যানে বাংলাদেশের ৬৫ হাজার গ্রামে একটি করে কো-অপারেটিভ হবে।… এর জমি মালিকের থাকবে। কিন্তু তার ফসলের অংশ সবাই পাবে। প্রত্যেকটি বেকার, প্রত্যেকটি মানুষ, যে মানুষ কাজ করতে পারে, তাকে এই কো-অপারেটিভের সদস্য হতে হবে। এগুলি বহুমুখী কো-অপারেটিভ হবে। পয়সা যাবে তাদের কাছে, ফার্টিলাইজার যাবে তাদের কাছে, টেস্ট রিলিফ যাবে তাদের কাছে, ওয়ার্কস প্রোগ্রাম যাবে তাদের কাছে। আস্তে আস্তে ইউনিয়ন কাউন্সিলে এই জন্যই ভিলেজ কো-অপারেটিভ হবে। আমি ঘোষণা করছি আজকে যে, পাঁচ বছরের প্ল্যানে প্রত্যেকটি গ্রামে পাঁচশত থেকে এক হাজার ফ্যামিলি পর্যন্ত নিয়ে কম্পালসারি কো-অপারেটিভ হবে। আপনার জমির ফসল আপনি নেবেন, অংশ যাবে কো-অপারেটিভের হাতে, অংশ যাবে গভর্নমেন্টের হাতে।”
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু নতুন পদ্ধতির দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বারবার বলেছেন, “আমি বিনা কারণে সিস্টেম পরিবর্তন করতে যাচ্ছি না। শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই আমার লক্ষ্য।” প্রসঙ্গত প্রণিধানযোগ্য আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর এই বিশ্লেষণ : “পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের হত্যাকা-টি যদি না ঘটত এবং বঙ্গবন্ধু তাঁর বাকশাল শাসন-ব্যবস্থা চালু করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা আজ কী দাঁড়াত, সে-সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু চিন্তা-ভাবনার দরকার আছে। বাকশাল পদ্ধতি সফল হলেই বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হতো, এমন দাবি করি না; বাংলাদেশে সুবিধাভোগী শ্রেণীর গণতন্ত্রে কিছুট ছাঁটকাট হয়েছিল বটে, কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছত। ব্রিটিশ আমলের আমলাতন্ত্রের হাতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বন্দি ছিল। নির্বাচিত জেলা গভর্নর প্রথা সেই বন্দি অবস্থা থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করত। এ জন্যই এই গণতন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল শোষিতের গণতন্ত্র।”
শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শোষণমুক্ত যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলেছেন, হঠাৎ করেই তা তার চিন্তায় এসেছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। সুদীর্ঘ সংগ্রামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, অধীত জ্ঞান আর কঠোর সাধনায় তিনি উপনীত হয়েছিলেন স্বকীয় এই রাজনৈতিক দর্শনে। ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে মেকি গণতন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করে বঙ্গবন্ধু বলেন, “ … they have declared Pakistan a democratic country. May I ask what is the meaning of ‘democracy’? A parliamentary form of government, in the name of Islam, no doubt. They are giving wide powers to the President- in fact they have given all powers to the President. Sir, we have experience of Mogul dynasty; we know about the Pathan dynasty. But, now let them create another dynasty known as the Chowdhury dynasty in Pakistan. The present Prime Minister is a Chowdhury and a dynasty should be created in his name, because a Conustitution will be framed during his tenure of office. Though you will be having a parliamentary form of government, yet you have given the power of dissolution to the Head of the State, which
is against and quite contrary to democratic principles.  ” রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনেও বঙ্গবন্ধু যথার্থ গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেনÑ পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। মাও সে তুং-এর নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের চীন বিপ্লবের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। চীন বিপ্লব সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ ছিল ব্যাপক। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক সরকার যখন তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি করে রেখেছে, সে-সময়ে, ১৯৫১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার কাছে লেখা বঙ্গবন্ধুর একটি চিঠির অংশবিশেষ এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। ওই চিঠিতে বঙ্গবন্ধু লেখেন : “চিন্তার কোনই কারণ নাই। জেলখানায়ও যদি মরতে হয় তবে মিথ্যার কাছে কোন দিন মাথা নত করবো না। আমি একলা জেলে থাকাতে আপনাদের কোন অসুবিধা হবে না। কাজ করে যান, খোদা নিশ্চয়ই সাহায্য করবে। আমার জন্য কিছুই পাঠাবেন না। আমার কোন কিছুরই দরকার নাই। নূতন চীনের কিছু বই যদি পাওয়া যায় তবে আমাকে পাঠাবেন।” চীন সম্পর্কে জানার এই আগ্রহ কেন? তিনি কি তখনই শোষিতের মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রের কথা ভাবতে শুরু করেছেন?
হ্যাঁ, বঙ্গবন্ধু তখন থেকেই সমাজতান্ত্রিক শাসন-ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেছেন। ১৯৫২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি সম্মেলনে পিকিং যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। চীনে তিনি কৃষি-অর্থনীতি ও সমবায় প্রথা কীভাবে কাজ করছে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন। তার স্বপ্ন- ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে। চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে শ্রমিকের চেয়ে কৃষক-সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলাদেশও কৃষিপ্রধান দেশ। তাই চীনের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে শেখ মুজিবুর রহমান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমার দেখা নয়াচীন (২০২০) গ্রন্থে তিনি লিখেছেন : “চীন সরকার কৃষির উন্নতি করছেÑ মাথাভারী ব্যবস্থার ভিতর দিয়া নয়, সাধারণ কর্মীদের দিয়া। বিরাট ফার্ম, যেখানে বীজ তৈয়ার করা হয় এবং দেশের ভিতর সেই ভালো বীজ ব্যবহার করার জন্য পাঠানো হয়। কৃষি-শ্রমিকদের সুবিধাও অনেক। আমাদের দেশের সরকারি কৃষি ফার্মগুলিতে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয় মাথাভারী ব্যবস্থার ফলে।” ১৯৭২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সেখানকার উৎপাদন-ব্যবস্থা এবং কৃষি-অর্থনীতি গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন। বিপ্লবের প্রতি আকর্ষণের কারণেই কিউবার সমাজতান্ত্রিক নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে গড়ে ওঠে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
কেবল স্বাধীনতা নয়, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি। সেজন্য শোষিত মানুষের স্বার্থের কাছে নিজের স্বার্থকে তিনি জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন। বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তিই ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। সেই মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। নিজের দিকে, পরিবারের দিকে কখনও দৃষ্টি দেবার সুযোগ পাননি বঙ্গবন্ধু। প্রসংগত মনে পড়ে, ১৯৫২ সালের ২৫ জুন হায়দরাবাদে অবস্থানরত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছে লাহোর থেকে লেখা শেখ মুজিবুর রহমানের একটি চিঠির এই বাক্যদ্বয় :Please don’t think for me. I have born to suffer. ” বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ এবং উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর এই রাজনৈতিক দর্শন মানবমুক্তির পথে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার যে-মুহূর্তে উন্মোচন করতে যাচ্ছে, সে-মুহূর্তেই জাতিক-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের নীল নকশায় শহিদ হলেন বঙ্গবন্ধু।
কিন্তু কেন? কারণ একটাই- বাংলাদেশের স্বাধীনতার চাকাকে পরাধীনতার পঙ্কে নিমজ্জিত করা এবং বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে স্তব্ধ করে দেওয়া। তার মৃত্যু কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির সংগ্রামেই এক প্রবল আঘাত- এ-কথাই ধ্বনিত হয়েছে ফিদেল কাস্ত্রোর পূর্বোক্ত উক্তিতে। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ বিশ্ব পুঁজিবাদ চায়নি বঙ্গবন্ধুর ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ পরিচয়বাহী রাজনৈতিক দর্শন পূর্ণতার সুযোগ পাক, পৃথিবীর কোনো দেশে তার বাস্তবায়ন ঘটুক। তারা যথার্থই বুঝেছিল, বঙ্গবন্ধুর এই দর্শনের সফল বাস্তবায়ন তাদের শোষণের মহোৎসবে হয়ে দাঁড়াবে প্রবল বাধা। অতএব গভীর ষড়যন্ত্র, নীল নকশা এবং পরিণতিতে পঁচাত্তরের আগস্ট ট্র্যাজেডি।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকচক্র বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে এদেশকে আবার পাকিস্তানমুখী করতে চেয়েছিল। পঁচাত্তরের পর দীর্ঘ ২১ বছর ধরে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা চিরতরে ধ্বংস করতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধুর অনন্য রাজনৈতিক দর্শন, ইতিহাস থেমে মুছে ফেলতে চেয়েছে তার নাম-পরিচয়। কিন্তু সময়ের বিচারে তারাই নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বিদেহী বঙ্গবন্ধু যে কত শক্তিশালী, এ-কথা কুচক্রীরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা অনুধাবন করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে, অনেকের মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে, কেউ কেউ তেলাচাটার মতো বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু আছেন প্রধানতম ব্যক্তি হিসেবে। কেবল বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন নতুন নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আজ ইউনেস্কো ঘোষিত অন্যতম ‘বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ’, বঙ্গবন্ধু থেকে এখন তিনি বিশ্ববন্ধুতে উপনীত, পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার কিংবা বঙ্গবন্ধু কর্নার, অনেক দেশ তার নামে প্রবর্তন করছে শান্তি পুরস্কার। পৃথিবীর মানুষের কাছে বাঙালির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত।
বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের আলোয় বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ এখন ‘মিরাকল অর্থনীতি’র দেশ, পৃথিবীতে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পেয়েছে স্বীকৃতি। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ও উন্নয়ন এসেছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজা শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় দক্ষতার মধ্য দিয়ে। শেখ হাসিনা মানেই তো পরোক্ষ বঙ্গবন্ধুÑ পরোক্ষ বলি কেন, প্রত্যক্ষই বঙ্গবন্ধু। সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু শোষিতের গণতন্ত্রের রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে যেসব কাজ করতে আরম্ভ করেছিলেন; কিন্তু সম্পূর্ণ করতে পারেননি, এখন সেসব কাজ কিংবা বলি আরও অনেক নতুন নতুন কাজ শেষ হাসিনা সম্পূর্ণ করছেনÑ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে নির্মাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর যে শত্রুরা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল, এখন তারা বাংলাদেশকে সমীহ করছে, স্বীকার করছে নিজেদের ভুল। এভাবেই প্রত্যক্ষ বঙ্গবন্ধু নয়, পরোক্ষ অথচ চির-অস্তিত্ববান বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ত পরাজিত হচ্ছে দেশীয় কুচক্রীরা, পরাজিত হচ্ছে বিশ্ব পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ।
এক সময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কখনও বা খাদ্য রপ্তানির দুঃসাহসও দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্য দেশকে বাংলাদেশ এখন অর্থ-ঋণ দিচ্ছে, দুর্গত দেশকে দু-হাতে সাহায্য করছে। বিগত এক যুগে বাংলাদেশের ম্যাক্রো-অর্থনীতির রূপান্তর, এক কথায় বিস্ময়কর। অর্থনীতির এক অবাক বিস্ময় শিল্প-সেবা-কৃষি- এই ৩টি খাতই বাংলাদেশে একই গতিতে পাশাপাশি বেড়ে চলেছে। এমনটি সাধারণত ঘটে না। একটি খাত বৃদ্ধি পেলে অন্যটি থমকে যায়। কিন্তু বাংলাদেশ এক ব্যতিক্রমী অর্থনীতির দেশÑ এখানে ৩টি খাতই অভিন্ন গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনীতির সব সূচকেই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলেছে। গত ১০ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭%। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি স্বপ্নের সমান বলে মনে হয়। রাজস্ব আহরণেও বাংলাদেশ এগিয়েছে বহুদূর। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শক্তিশালী অর্থনীতির কারণে বিশ্ব মন্দার সময়েও বাংলাদেশ চলেছে স্বাভাবিক গতিতে, করোনা মহামারির এই কালখ-েও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে প্রত্যাশিত গতিতে।
অর্থনীতির মতো সামাজিক সব সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি রীতিমতো বিস্ময়কর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গৃহায়নÑ যে কোনো দিকেই বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন সহজেই দৃশ্যমান। সামাজিক অনেক সূচকেই বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী অনেক দেশকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের পূর্বেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারবে বলে আশা করা যায়।
এতসব অগ্রগতি সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আমাদের যেতে হবে আরও বহুদূর। সে যাত্রায় বঙ্গবন্ধুর ‘শোষিতের গণতন্ত্র’ হতে পারে আমাদের প্রধান শক্তি-উৎস। কিন্তু সেক্ষেত্রেই মাঝে মাঝে দেখা দেয় শঙ্কা। সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার দুঃসময়ে ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছে। অন্যদিকে অ্যান্থনি গিডডেন্সের তত্ত্বানুসারে রাজনৈতিক একনায়কত্বের স্থানে আমলাতান্ত্রিক একনায়কত্বের প্রাধান্যও দিনে দিনে প্রবল হয়ে উঠছে- যা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের একেবারে বিপ্রতীপ। এক্ষেত্রে এখনই সচেতন হওয়া দরকার। ডেমোক্রেটিক ডেভিডেন্টের মহাসুযোগ কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে এগিয়ে গেলে অচিরেই শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে আমরা সফল হব বলে আশা করতে পারি এবং তা-ই হবে আগস্ট ট্র্যাজেডির যথার্থ ক্যাথারসিস বা পরম বিমোক্ষণ।

লেখক : অধ্যাপক

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য