Saturday, July 13, 2024
বাড়িদশম বর্ষ,সপ্তম সংখ্যা,জুন-২০২০আওয়ামী লীগের নারীনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর নারীবিষয়ক ভাবনাগুচ্ছ

আওয়ামী লীগের নারীনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর নারীবিষয়ক ভাবনাগুচ্ছ

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম: স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের তেজস্বী স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন বক্তৃতা ও রচনাতে নারী-সমাজের অবদানের কথা উল্লিখিত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগোত্তর বঙ্গবন্ধুর লেখনী প্রচেষ্টায় নারীর মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত বিষয়সমূহ বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের মূলনীতিতে নারী সম্পর্কে বলা হয়েছে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সম্পদ বণ্টনে সমান উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা ও নারীর পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম-অধিকার নিশ্চিতকরণ ও নারী নির্যাতনের পথ বন্ধকরণ। নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার সাধন, চাকরিক্ষেত্রে পুরুষের সমান বেতন প্রদান এবং মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকরিতে তাদের সম-অধিকার দান (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র, ১৯৮৭)। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বাংলাদেশের প্রথম নারী উন্নয়নের সোপান বলা যায়। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, নর-নারী ও ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান আওয়ামী লীগের দলীয় আদর্শের অন্যতম দিক। বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা নারীর ক্ষমতায়নের সাথে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এই যে, বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্বলিত ১১নং অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়। অথচ বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। এই উপলব্ধির মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করেন।
ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামো নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক। নায়লা কবীর (১৯৯১)-এর মতে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামো পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলের আদলে নয়; বরং নারী উন্নয়নে সহায়ক। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকা-ের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক নারী দশক ঘোষণা করা হয়। জিয়ার ক্ষমতায় আসার পেছনে কোনো গণতান্ত্রিক ভিত্তি না থাকার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়কে তার জনমত তৈরির কাজে কৌশলে কাজে লাগানো হয়। এক্ষেত্রে ‘নারী উন্নয়ন’ এজেন্ডাকে তার ক্ষমতা বৈধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যদিও জিয়ার পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিদেশি অনুদানপুষ্ট নারী উন্নয়ন নীতির স্ববিরোধিতা লক্ষণীয়। উদাহরণস্বরূপ পাশ্চাত্যনীতির প্রভাবে পুলিশের চাকরিতে নারীদের নিয়োগদান এবং সৌদি আরবের চাপে তাদের রাস্তা থেকে ঘরের ভিতর অবস্থানমূলক কাজকর্মে নিয়োজিত করার কথা উল্লেখ করা যায়। ধর্মীয় আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রীয় নীতি নারীদের অনুকূল হতে পারে না (হাসিনা আহমেদ ও সুরাইয়া বেগম, ১৯৯৭ : ১১৪-১১৫)। রাষ্ট্রীয় মদদে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সামরিক শাসক এরশাদ সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাসিত করে। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সমাজ-জীবনে সাম্প্রদায়িক মনস্তত্ত্ব ও কার্যক্রম দৃঢ় হয়। যার প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের সমাজে নারী মুক্তির পরিসর সংকুচিত হতে থাকে। ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তে অর্জিত সংবিধানে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনঃপ্রবর্তন করেন।
নারীমুক্তি ও নারীর মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত চিন্তার প্রগাঢ়তা বঙ্গবন্ধুর নয়াচীন সফরের স্মৃতিনির্ভর ভ্রমণ কাহিনি ‘আমার দেখা নয়াচীন’ (১৯৫৪ সালে কারাগারে রচিত) বইটিতে লক্ষণীয়। বিশেষ করে পিস কনফারেন্সের সদস্য হিসেবে সফরের সময় তৎকালীন চীনের নারীদের অবস্থানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) তুলনামূলক বিশ্লেষণে নারীকে পুরুষের অধস্তন নয়, মানুষ হিসেবে দেখার বিষয়টি অতুলনীয়। পহেলা অক্টোবর নয়াচীনের স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রায় মহিলা ন্যাশনাল গার্ডের প্যারেড দেখে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “যেন পুরুষের বাবা আর কি!” [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ৫৫]। চীনের নারীদের পেটের দায়ে বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বনের চিত্র বিশ্লেষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন যে, “পেটে খাবার না থাকলে কোন ধর্মকথায়ই মানুষ ঈমান রাখতে পারে না।” [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ৯৬]। তিনি বেশ্যাবৃত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে তৎকালীন চীনের প্রচলিত যৌতুক প্রথাকে দায়ী করেন। গরিব ভদ্রলোক পিতা মেয়েকে লেখাপড়া শেখানোর পর যৌতুকের টাকা যোগানে ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন যে, মেয়েকেই প্রথমে দায়ী করা হয় তার বিয়ে না হওয়ার জন্য। তখন উপায়ান্তর না দেখে এই মেয়েরা সমাজে বেশ্যাবৃত্তির মতো ঘৃণ্য ব্যাধির শিকার হয়ে পড়ে। তাই দৃঢ়চিত্তের লেখনীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমি আমার দেশের মেয়েদের অনুরোধ করব, যে ছেলে এই অর্থ চাইবে তাকে কোন মেয়েরই বিবাহ করা উচিৎ না।” [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ৯৭]। তিনি আশা পোষণ করেন যে, মানবসৃষ্ট এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ফলজনিত কুপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমাদের মতো বহু যুবকের সাহায্যও তারা পাবে [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ৯৭]। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে বাংলাদেশে নারীর বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও নারীর ক্ষমতায়নের পথে বড় বাধা হচ্ছে নারীর প্রতি বহুমুখী সহিংসতা। নারীর সহিংসতা রোধে প্রচুর আইন থাকার পরেও ন্যায়বিচার থেকে বহু নারী বঞ্চিত হচ্ছে।
তাই বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছেন যে, আইন করলেই কোনো অন্যায় বন্ধ করা সম্ভব নয়। অন্যায় প্রতিরোধে প্রয়োজন সুষ্ঠু সামাজিক কর্মপন্থা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও নৈতিক পরিবর্তন। বঙ্গবন্ধুর লেখনীতে উঠে এসেছে চীনের বিবাহ আইন। যে আইনে ছেলেমেয়ে একমত হয়ে দরখাস্ত করলেই তাদের যার যার ধর্মানুযায়ী বিবাহ দিতে বাধ্য। তিনি ‘পুরুষ শ্রেষ্ঠ, আর স্ত্রীজাতি নিকৃষ্ট’ এই পুরনো প্রথার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নয়াচীনে আইন করে এটি বাতিল করা হয়। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুফল চীনের নারীদের বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক, ডাক্তার, যোদ্ধা ইত্যাদি হতে সহায়ক হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পাশ্চাত্যের দেশগুলির (গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি) নারী স্বাধীনতা নারী প্রগতির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তুরস্কের নারী পাইলটদের পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ পাইলট বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু আক্ষেপ করে বলেছেন যে যদিও চীনের মত আইনে আমাদের দেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার তথাপি দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত লোকের মনে ধারণা যে পুরুষের পায়ের নিচে মেয়েদের বেহেশত [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ৯৮-৯৯]।
নারীকে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয়ভাবে অধস্তন ভাবার জন্য বঙ্গবন্ধু স্বল্পশিক্ষিত মানুষদের মাঝে কিছু পীর কর্তৃক ধর্মের অপপ্রচারকে দায়ী করেন। যার ফলে বেহেশতের আশায় নারীদের নীরবে সব অন্যায় সহ্য করতে হয়। এর বড় কারণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু পুরুষের ওপর নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে দায়ী করেছেন। ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রসঙ্গে হযরত রসূলে করিমের (সা.) স্ত্রী হযরত আয়শা সিদ্দিকার উদ্ধৃতি ‘দুনিয়ায় ইসলামই নারীর অধিকার দিয়াছে’ উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু চার বিবাহের যৌক্তিকতাকে প্রশ্ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, কোরানে উল্লেখ আছে কোন ব্যক্তি চারটি বিবাহ করতে পারে যদি সকল স্ত্রীকে সমানভাবে দেখাশোনা করতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রশ্ন রেখেছেন, “এমন কোন মানুষ জন্মগ্রহণ করেছে কি যে সমানভাবে সকল স্ত্রীকে দেখতে পারে? কোনদিন পারে না। তাই যদি না পারে তবে চার বিবাহ করতে পারে না। আল্লাহর হুকুম সেখানে অমান্য করা হয়” [আমার দেখা নয়াচীন, ২০২০ : ১০০]। এই প্রগতিশীল চিন্তার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ১৯৭৪ সালে মুসলিম বিবাহ এবং বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণ আইন প্রণীত হয়।
নারীর অংশগ্রহণ ব্যতীত রাজনীতি এবং রাজনৈতিক কর্মকা- বঙ্গবন্ধুর ভাবনার মধ্যে ছিল না। ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে আওয়ামী মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মীয় লেবাস থেকে আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক দর্শনকে আলাদা করে সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন রাজনৈতিক দল হয়ে উঠল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের এ বিজয় ছিল ধর্মনিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির প্রতি পূর্ব বাংলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, যার মধ্য দিয়ে মুসলিম লীগ নামক ধর্মীয় রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন ও কাগুজে দলে পরিণত হয়। এরপরে সব ধর্মের নারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। যে কারণে আমরা দেখতে পাই, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ১৪ জন নারী নির্বাচিত হন, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন সংখ্যালঘু প্রতিনিধি। যদিও যুক্তফ্রন্ট সরকার খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; কিন্তু এর মধ্য দিয়ে নারী-সমাজের আত্মবিশ্বাস বেড়ে ওঠে এবং নারীদের মধ্যে দেখা দেয় অভূতপূর্ব এক জাগরণ (রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহদী, ২০০৬ : ৪৫)। যে সকল নারী বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হন, তারা মূলত মুসলিম লীগ সরকারের নারী জাগরণ-বিরোধী সকল দমননীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং ২১-দফার ভিত্তিতে গঠিত যুক্তফ্রন্টে যোগ দেন, তাদের মধ্যে বেগম নুরজাহান মুরশিদ, দৌলতুন্নেসা খাতুন, বদরুন্নেসা আহমাদ, আমেনা বেগম (যিনি ৬-দফা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন আহমদের গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন) প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করে ৯২(ক) ধারা জারি করে দেশে গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করল। প্রাদেশিক পরিষদ বাতিলসহ রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ও নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করার আদেশ ছিল। ফলস্বরূপ নারীদের গ্রেফতার করা হতে থাকে এবং সভা-সমিতি, গান-বাজনা, অভিনয়, কপালে টিপ পরার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। উপরন্তু ৯২(ক) ধারা বলে ২১শে ফেব্রুয়ারির সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। লক্ষণীয় যে, ১৯৫২ থেকে শুরু করে দেশের সকল প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার সভা থেকে ছাত্রীরা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় বের হন। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে ভাষা আন্দোলনে নারী ও ছোট মেয়েদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে। কারাগার সংলগ্ন (মুসলিম গার্লস স্কুল) ছাদ থেকে ছোট্ট মেয়েদের, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘বন্দী ভাইদের মুক্তি চাই’, ‘পুলিশি জুলুম চলবে না’ এমন নানা ধরনের সেøাগানের কথা উল্লেখ করেন। ছাত্রী ও গৃহবধূ সকলের ভাষা আন্দোলনে সরব উপস্থিতির কথাও বঙ্গবন্ধু লিখেছেন [অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ২০১২ : ২০০]। ১৯৫৫ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির শোভাযাত্রা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রী মিছিল হলে প্রায় ১৫০ জন নারীকে গ্রেফতার করা হয় [রোকেয়া কবীর ও মুজিব মেহদী, ২০০৬ : ৪৬]।
১৯৬০-এর স্বাধিকার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ১৯৬৬ সালে বদরুন্নেসা আহমাদকে আওয়ামী লীগের মহিলা শাখার প্রধান করা হয়। ১৯৬৬-৬৭ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইডেন মহিলা কলেজ স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মতিয়া চৌধুরী। একই সময়ে কবি সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের মেয়েরা আলাদা আলাদা ব্রিগেড করে রাইফেল চালানোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এখানে তারা সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এবং অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর জনসভার পর ৯ মাস দীর্ঘ মুক্তিযুদ্ধে নারী নীরব দর্শক হয়ে থাকেনি। দলমত নির্বিশেষে ১৮ মার্চ ঢাকা নার্সিং স্কুলের ছাত্র সংসদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সভায় বেগম শাহজাদী হারুনের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।
স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারী অসামান্য অবদান রাখে। প্রায় ২ লক্ষাধিক মা-বোন যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিকট সম্ভ্রম হারান। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের এই নারীদের বঙ্গবন্ধু ‘বীরাঙ্গনা’ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। বীরাঙ্গনা অর্থ বীর নারী। একজন বীরাঙ্গনা নারীর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যেসব রমণী মাতৃভূমির জন্য তাদের সতীত্ব, নারীত্ব হারিয়েছে তিনি তাদের বীরাঙ্গনা আখ্যায় ভূষিত করেছেন। অন্তরের শ্রদ্ধা জানালাম সেই মহানায়কের উদ্দেশ্যে” [নীলিমা ইব্রাহিম, ২০১৮ : ২৩]। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ও পরিবারের ঊর্ধ্বে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “তোরা আমার মা, জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছিস। তোরা শ্রেষ্ঠ বীরাঙ্গনা। আমি আছি, তোদের চিন্তা কি?” [নীলিমা ইব্রাহিম, ২০১৮ : ২৪]। বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি তার স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসাও এই বীরাঙ্গনা নারীদের অভিভাবকে পরিণত হন। বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের প্রচেষ্টায় ১০ জন বীরাঙ্গনা নারীর বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বীরাঙ্গনা নারীদের পুনর্বাসন ও আবাসনের জন্য বোর্ড গঠিত হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশেই যুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের এ-ধরনের উপাধিতে ভূষিত করা হয় নাই। বঙ্গবন্ধুই প্রথম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধে নারীর বহুমাত্রিক অবদানকে বীরাঙ্গনা উপাধি দেওয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মহিলা সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী বদরুন্নেসা আহমাদের মৃত্যুতে সংসদে গৃহীত শোকপ্রস্তাবে তাকে বীরাঙ্গনা বলে অভিহিত করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও এ বিশেষণটি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীদের বাইরে গিয়েও এই বীরাঙ্গনা অভিধা প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় যুদ্ধে যে সব নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল, যাদের ধর্ষণ করা হয়েছিল তাদের প্রতি তার অনুভূতির তীব্রতা বেশি ছিল। তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “ধর্ষিতা মেয়ের বাবার নামের জায়গায় আমার নাম লিখে দাও আর ঠিকানা লেখো ধানমন্ডি ৩২। মুক্তিযুদ্ধে তোমরা যা দিয়েছো তার ঋণ আমি কিভাবে শোধ করবো?”
সমাজে ধর্ষণ যে নারীর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং যুদ্ধকালীন ধর্ষণ বস্তুত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধÑ এ ধারণাসমূহ পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সে-সময় প্রতিষ্ঠা পায়নি। যার প্রতিফলন বীরাঙ্গনাদের বয়ানে প্রতীয়মান। অসংখ্য বীরাঙ্গনা নিজ পরিবার, স্বামী ও ভাইবোন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সরকার থেকে বীরাঙ্গনাদের পরিবার ‘সতীত্ব-মাতৃত্বের’ দাম নিয়েছে অথচ বীরাঙ্গনা মেয়েকে ঘরে তুলে নেয়নি। ‘মনুষ্যত্বের এই অপমৃত্যু’ বঙ্গবন্ধুকেও অনুধাবন করতে হয়েছে। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও শেষ দেখে যেতে পারেন নি। সমাজে বীরাঙ্গনাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার বিষয়কে সময়ের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বীরাঙ্গনাদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক লাঞ্ছনার হাত থেকে বাঁচানোটাই তখন মূল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবার-পরিজনও নির্যাতনের ঘটনার প্রকাশ চাননি। ফলে অনেক নির্যাতিত নারী পুনর্বাসন সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, আবার অনেকে জেনেও নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে পুনর্বাসন ব্যবস্থার সুযোগ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন [আসক, ২০০১ : ১৮-১৯]।
যুদ্ধাবস্থায় নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি গত দুই দশক ধরে নারীবাদী তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার প্রায় ৭৫ বছর পরেও সে-সময় নারীদের ওপর যে অত্যাচার চলেছে তার ভিন্নতর বিশ্লেষণের মাধ্যমে যুদ্ধের এই বিশেষ কৌশলের দিকটি (যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার) সকলের দৃষ্টিতে আসে। একইভাবে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার প্রথম দশকে সংঘটিত ধর্ষণকে যুদ্ধাপরাধজনিত ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি; বরং পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সম্ভ্রমজনিত বিষয় হিসেবে দেখা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়। স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ জাতীয় সংসদে ঐ প্রস্তাব পাস হয়। ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বীরাঙ্গনাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও সামরিক সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বীরাঙ্গনা নারীরা প্রধানত ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন শারীরিক এবং মানসিক লাঞ্ছনাকে অভিশাপ হিসেবে নিয়ে বেঁচে আছে। তাই বীর নারী হনুফার কথায়, “আমরা ভাতা চাই না, আমরা স্বীকৃতি চাই। প্রধানমন্ত্রী, আমাদের একটু দেখেন” [ডেইলি সান, ৪ আগস্ট ২০১৬]। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক উদ্যোগে ৩২২ জন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা প্রতি মাসে ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের মতো অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। যারা তালিকাভুক্ত হননি, তাদেরও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত সংসদ ও সংবিধান। স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই তাই বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দেন। ১৯৭২-এর সংবিধানের বিভিন্ন ধারা প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সার্বিক সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়। বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে ১৫টি সংরক্ষিত আসন সৃষ্টি করেন। যদিও আওয়ামী লীগ ১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে কোনো নারীকে সরাসরি নির্বাচনে সুযোগ দিতে পারেনি; কিন্তু সে-সময় কেবিনেটে দুজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ পান। নারী আন্দোলনের দাবির মুখে ১৯৯০ সালে ৩০, ২০০০ সালে ৪৫ এবং সর্বশেষ ২০১১ সালে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা বেড়ে ৫০ হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের মূলধারার রাজনীতি ও ভোটারদের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। আওয়ামী লীগকে ৩৩ শতাংশ নারী দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধুর নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে প্রথম নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করেন, যার লক্ষ্য ছিল নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য নিরসন, জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিত করা, নারীর মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে ২০০৪ সালে তৎকালীন জামাত-বিএনপি জোট সরকার নারীনীতি সংশোধন করে এবং জাতীয় নারী উন্নয়ননীতি ১৯৯৭-এর পটভূমি থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে বিএনপি সরকারের কর্মকা- যুক্ত করা হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এসে নারীনীতি ১৯৯৭-এর আলোকে প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নানান কারণে সম্পদের উত্তরাধিকার বণ্টনের সম-অধিকার বিষয়টি সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রায় তিন মেয়াদের কাছাকাছি এসেও সমাজ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কী কী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আইনসমূহের বিশেষ করে উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের পদক্ষেপ নেবে, তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আমরা এখনও পাইনি। যদিও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে সমান অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন; কিন্তু বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থা নারী-সমাজকে বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন করেছে। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে বলতে চাই, এ জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথাযথ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। বাংলাদেশের নানা স্তরের নারীরা নানামুখী ভূমিকায় মাত্র ৯ মাস সময় পরিসরে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি বিজয় অর্জনকে সুনিশ্চিত করেছেন। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যারা সরাসরি অস্ত্র ধরেছিলেন, তাদের প্রাণ হারানোর আশঙ্কা ছিল সর্বাপেক্ষা বেশি; কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণের শিকার হওয়ার আশঙ্কাও ছিল প্রবল। তাই এটা প্রমাণিত যে, মুক্তিযুদ্ধের সকল গৌরবের তারাও সমান অংশীদার। বিভিন্ন ক্ষমতাধর দেশের হুমকি অগ্রাহ্য করে প্রধানমন্ত্রী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ১৯৭১ সালে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে এই বীরাঙ্গনাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ উন্মোচনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বহমান ক্ষতে খানিকটা প্রলেপ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাই শেষ কথা বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে নারী-পুরুষের সম-অধিকারে বিশ্বাসী ছিলেন, তাই তিনি ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এ বলেছেন, “নয়াচীনের উন্নতির প্রধান কারণ পুরুষ ও মহিলা আজ সমানভাবে এগিয়ে এসেছে দেশের কাজে। সমানভাবে সাড়া দিয়েছে জাতি গঠনমূলক কাজে। তাই জাতি এগিয়ে চলেছে উন্নতির দিকে” (২০২০ : ১০১)। আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নারী ও পুরুষের বৈষম্য নিরসনে ন্যায্যতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দাবি করছি।

লেখক : ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক তথ্য কমিশনার

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য