Sunday, July 3, 2022
বাড়িSliderআওয়ামী লীগের জন্ম দেশ ও জাতির প্রয়োজনে

আওয়ামী লীগের জন্ম দেশ ও জাতির প্রয়োজনে

বাংলার জনগণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। জনগণের এই আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন সম্মুখভাগে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন জেল-জুলুম তাকে দমাতে পারেনি।

মতিয়া চৌধুরী: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্ম নিয়েছিল দেশ ও জাতির প্রয়োজনে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পরই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভূ-খণ্ডের বসবাসকারী জনগণ উপলব্ধি করতে শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা এই ভূ-খণ্ডের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থন্বেষীগোষ্ঠী এই ভূ-খ-কে শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করবে। আমাদের অর্থকরী ফসল সোনালি আঁশ পাট রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো, তা দিয়েই ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডি তৈরি হলো। শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরি, যোগাযোগ, কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য- যা একটি রাষ্ট্রের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, তার সব কিছুতে বাঙালির যে ন্যায্য হিস্যা তা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত করা হচ্ছিল। যদিও শিক্ষা-দীক্ষায় এই ভূ-খণ্ডের মানুষ অনেক এগিয়ে ছিল। তারপরও চাকরির ক্ষেত্রে বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যে এই ভূ-খণ্ড কে তাদের শাসন ও শোষণের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছিল, তা বাংলার সাধারণ মানুষের চোখে অত্যন্ত নগ্ন হয়ে ধরা দিতে শুরু করল। এমনই প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বাঙালির অধিকার আদায়ে প্রতিষ্ঠিত হলো আওয়ামী লীগ।
তখন সবচেয়ে কঠিন আঘাত এসেছিল মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। জিন্নাহ সাহেব ঘোষণা দিল, ‘Urdu shall be the state language of Pakistan.’ মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার মধ্য দিয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে তাদের শোষণ ও নির্যাতনের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সেদিন বাঙালিকে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হয়েছিল। এদেশের ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হলো। যা পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য। একই সঙ্গে পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠী নানা ধরনের নিবর্তনমূলক আইন দিয়ে জনগণের মতামত প্রকাশের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাছে জনগণের প্রাপ্য অধিকার একে একে কেড়ে নিতে শুরু করল। তখন জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল, তার পুরোভাগে ছিলেন সেদিনের তরুণ নেতা সবার প্রিয় মুজিব ভাই। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কারাবরণকারী সেদিনকার তরুণ নেতা শেখ মুজিব জেলখানায় দিনের পর দিন অনশন ধর্মঘট করেন।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তরুণ নেতা শেখ মুজিব ক্লান্তিহীন-শ্রান্তিহীন দক্ষ সংগঠকের ভূমিকা নিয়ে বাংলার গণতন্ত্রকামী মানুষকে সংগঠিত করেন এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় বাঙালির অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কৃষক-শ্রমিক ছাত্র-জনতাকে সংঘবদ্ধ করেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনগণের এই রায়কে উপেক্ষা করে নানান ধরনের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভূ-খ-কে শোষণ এবং শাসনের চারণভূমিতে পরিণত করে। নির্বাচনের রায়কে বুটের তলায় পিষ্ট করে নানা ধরনের নিবর্তনমূলক আইন এবং ধারা দিয়ে তারা বাঙালির বিকাশকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। ’৫৪-এর নির্বাচনে বাঙালির তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের গণতন্ত্রের জন্য যে অদম্য আকাক্সক্ষা, তা বুঝতে পেরেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সামরিক শাসন জারি করে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসনামলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অধিকাংশ সময় সামরিক শাসন, মার্শাল ল’ ৯২(ক) ধারা, জরুরি অবস্থা ও নানা বিধিনিষেধ জারিসহ বিভিন্ন প্রকারে জনগণকে তার ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে সব ধরনের নিবর্তনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সেই সাথে তারা সামরিক জান্তার পদলেহনকারী একটি গোষ্ঠীকে বশংবধ হিসেবে ব্যবহার করে এই ভূ-খণ্ড শাসন ও শোষণ করার চক্রান্ত অব্যাহত রাখে। এমন কী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
বাংলার জনগণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। জনগণের এই আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন সম্মুখভাগে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতন জেল-জুলুম তাকে দমাতে পারেনি। শত অত্যাচার সহ্য করেও তিনি আন্দোলনের পুরোভাগে থেকে একদিকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে সমস্ত অন্যায়-জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যান। তৎকালীন সময়ে গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নিবর্তনমূলক যে দুর্বিষহ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, তার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন নির্ভীক- বারবার কারাভোগ করার পরও তিনি নির্ভয়-নিঃশঙ্কচিত্তে সুদৃঢ় মনোবল নিয়ে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে গেছেন। সবকিছু মিলিয়ে পাকিস্তানের ২৩ বছর সময়কালে খুব কম সময়ই তিনি মুক্ত জীবনের স্বাদ ভোগ করেন। বেশির ভাগ সময়ই তাকে জেলে থাকতে হয়েছে।
’৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধের সময় বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর উদাসীনতা-নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর আসল চেহারা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এই ভূ-খণ্ড যে অবহেলিত-বঞ্চিত ও শোষিতই নয়; বরং অরক্ষিতও তা প্রকটভাবে উপলব্ধি করে বাংলার জনগণ। বাঙালির শোষণ এবং বঞ্চনার এই জাগ্রতবোধের সময়টিতে বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর পরের ইতিহাস আমরা সকলেই জানি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এবং ওই মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে থাকার অধিকার পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়। দীর্ঘদিন তার নিকটজনরাও জানতেন যে তিনি কোথায় ছিলেন? এমন কী সাধারণ রাজবন্দিদের যে অধিকার বা সুযোগগুলো দেওয়া হতো, দীর্ঘ কারাবাসে বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে তাও নিষিদ্ধ করা হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নেও তিনি ছিলেন আপসহীন-নির্ভীক দৃঢ়চেতা ও নিঃশঙ্ক। বাঙালি সেদিন ৬-দফার প্রশ্নে যে ইস্পাত-দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলেছিল, যার সামনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কূটচাল-ভেদবুদ্ধি খড়-কুটার মতো উড়ে গিয়েছিল। সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে ঐক্যবদ্ধ জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে কারারুদ্ধ বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। এর পরের ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস- বিজয়ের ইতিহাস।
১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, ’৭১-এর অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন; অতঃপর পাকিস্তানের জিন্দানখানা থেকে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয়ীর বেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, একটি প্রাদেশিক সরকারের ধ্বংসপ্রাপ্ত শাসন কাঠামোকে একটি স্বাধীন দেশের গণমুখী সরকারে রূপান্তরিত করা, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণসহ সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাধারণ মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সংস্থান, বহু-আকাক্সিক্ষত বাঙালির নিজের সংবিধান প্রণয়ন, ’৭৩-এর ভূমিধস বিজয়; শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ ও বাঙালির ভাগ্যোন্নয়নে বঙ্গবন্ধু যখন সফল হচ্ছিলেন; প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যখন একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভীত রচিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই পরাজিত অপশক্তি আঘাত হানলো। বঙ্গবন্ধু মানুষের প্রতি যে অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা রাখতেন- এদেশের মানুষের প্রতি তার যে দুর্বলতা ছিল, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাঙালি নামধারী মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষীগোষ্ঠী তাকে সপরিবারে হত্যা করে। এমন কী বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদিকে বাঙালিকে যেমন নেতৃত্বশূন্য করা হলো, অন্যদিকে বিশ্বশান্তির অগ্রদূত ও জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-শোষিত জনগোষ্ঠীর মুখপাত্রের বজ্রকণ্ঠকে স্তব্ধ করা হয়। বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে নেমে আসে নিকশ অন্ধকার।
১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে ক্লান্তিহীন-শ্রান্তিহীন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করলেন। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি, স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটে। তার সাহসী নেতৃত্বেই বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের বাতাবরণের মধ্যে তাকে এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়- প্রতিনিয়ত তাকে অনুসরণ করেছে প্রাণঘাতি বুলেট। হত্যাকারীর টার্গেট ও বুলেট তাকে অনুসরণ করছে জেনেও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং পিতা মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিকশ কালো অন্ধকারে আলোর পথযাত্রী হিসেবে তিনি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছেন। অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে তিনি বাঙালি জাতির ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন। ষড়যন্ত্রের কুটিল পথ অতিক্রম করতে গিয়ে বারবার তার পা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। গণতন্ত্রহীনতায় অন্ধকারে চারদিক ছেয়ে এসেছে- চেনা মুখ অচেনা হয়েছে। কিন্তু তিনি হতোদ্যম হননি। পিতা মুজিবের মতো তিনি আলোর পথযাত্রী হয়ে অন্ধকারকে বিদূরিত করে বাংলার মানুষকে শান্তি-সমৃদ্ধি-উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

লেখক : সংসদ সদস্য এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আরও পড়ুন
- Advertisment -spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ

মন্তব্য